দেশের কয়েকটি শিল্প কারখানায় পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী শক্তি সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ যোগান দিয়ে দেশের ভেতরে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা করছে। জনগণকে এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি শান্তিতে জীবনযাপন করতে চায়। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে একটি মহল এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।
তারেক রহমান স্পষ্টভাবে জানান, বিএনপি একাত্তরের চেতনা ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানকে ধারণ করে। এই অঙ্গীকার থেকেই তারা জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবার এবং আহত যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। শহীদ পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং আহতদের চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং তাদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল মুখে উন্নয়নের কথা বললেও তাদের কাজের সাথে কথার মিল নেই। জনগণ এখন স্থিতিশীল পরিবেশ চায় এবং সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে, বিএনপি ৭১-কে ধারণ করে, বিএনপি ২৪-কে ধারণ করে। জনগণ চায় কর্মসংস্থান ও শান্তিপূর্ণভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে। আপনাদের শক্তি হচ্ছে বিএনপি সরকারের শক্তি।
জনসভায় রাজশাহীর পানির সংকট নিরসনে পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুই প্রধান নদীতে ব্যারেজ নির্মাণ করা হলে রাজশাহীসহ আশপাশের প্রায় ১৪টি জেলার মানুষ উপকৃত হবে। পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব এই প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে। এছাড়া কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, উপজেলা হাসপাতাল উন্নয়ন এবং খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনগণের অব্যাহত সমর্থন প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জনসভার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী আখচাষিদের জন্য বড় সুখবর দেন। তিনি ল্যাপটপের মাধ্যমে ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির মাঝে ১২ কোটি টাকার সরকারি প্রণোদনা বিতরণ করেন। মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে কৃষকরা মুহূর্তের মধ্যেই প্রণোদনার অর্থ জমার বার্তা পেয়ে যান। মুহূর্তেই কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে যায় প্রণোদনার অর্থ।
বিএনপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে জনসভাটি সঞ্চালনা করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নিতাই রায় চৌধুরী, মো. মিজানুর রহমান মিনু, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, মেজর (অব.) শরীর উদ্দিন, নিপুন রায় চৌধুরী, অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, আবু সাঈদ চাঁদ, মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, আমিনুল ইসলাম আলিম এবং মামুন-অর রশিদসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ। শরীর উদ্দিন, সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৬ আসনের সাংসদ আবু সাঈদ চাঁদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সহ-সাংগঠনিক সম্প।

