সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা বাড়ানোর আবদার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশনের

রমজান মাসকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশের বাজারে সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি আরও ১৪ টাকা বাড়ানোর জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। গত ১৩ অক্টোবর পাঠানো এই চিঠিতে কোম্পানিগুলো নতুন দাম কার্যকরের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাও উল্লেখ করেছে। যদিও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত এই প্রস্তাবনায় কোনো প্রকার সম্মতি দেয়নি। এর আগে গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছিল, যা সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। দেশের বাজারে সর্বশেষ ২ সেপ্টেম্বর ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছিল।

নতুন প্রস্তাবিত দামের চিত্র

শিল্প মালিকদের নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ২০৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১৮ টাকা করতে চায় কোম্পানিগুলো। এছাড়া ৫ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল বর্তমানে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও, তা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ১৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। যদিও অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, ২৫ অক্টোবর থেকেই এই বর্ধিত মূল্য কার্যকর করার কথা ছিল, তবে সরকারি অনুমোদনহীন এই সিদ্ধান্ত এখনও আলোর মুখ দেখেনি। রোজার আগেই এই বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে চায় তারা।

দাম বৃদ্ধির নেপথ্যে ব্যবসায়ীদের যুক্তি

বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং স্থানীয় পর্যায়ে জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এই সমন্বয় জরুরি হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, সার্বিক উৎপাদন খরচ ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির ফলে বর্তমান মূল্যে আর পণ্য সরবরাহ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তবে অতীতেও একই ধরনের যুক্তিতে একাধিকবার দাম বাড়ানো হয়েছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে।

ভোক্তা অধিকার ও বাজারের ভারসাম্য

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন জানিয়েছেন, দেশের ভোজ্যতেলের বাজার মূলত হাতেগোনা ৪ থেকে ৫টি বড় কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যারা মোট চাহিদার প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ সরবরাহ করে। তার অভিযোগ, এই কোম্পানিগুলো মাঝেমধ্যেই সরবরাহ কমিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকারকে জিম্মি করার কৌশল অবলম্বন করে। নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও বাজারে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দামে তেল বিক্রি হওয়া নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের সিন্ডিকেট ভাঙতে এবং সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারকে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বাকি ১০-১৫ শতাংশ অন্য ছোট কোম্পানি সরবরাহ করে। ওইসব বড় কোম্পানি দেশের চাহিদামতো তেল আমদানির পর রিফাইন করে বাজারে ছাড়ে।

শিরোনাম :
লক্ষ্মীপুরে মাটি ব্যবসার বিরোধে প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত খোরশেদ পাঁচটি খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নীল চায়ের যত গুণাবলি সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা বাড়ানোর আবদার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশনের গুলিস্তান-সদরঘাট হকারমুক্ত রাখতে কঠোর ডিএসসিসি, বসলে মিলবে শাস্তি সাদিক কায়েম |: অপরাজনীতির করুণ পরিণতি বরণ করতে হবে বিএনপিকে আইইডিসিআর কার্যালয়ে পরিচালককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ মানিক পশারীর কবর খোঁড়া ও দাফন: নেপথ্যের সত্য কী? মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিক্যাল পরীক্ষা শুরু ৩১ অক্টোবর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাছ উপড়ে সাময়িক যান চলাচল বন্ধ লক্ষ্মীপুরে মাটি ব্যবসার বিরোধে প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত খোরশেদ পাঁচটি খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নীল চায়ের যত গুণাবলি সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা বাড়ানোর আবদার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশনের গুলিস্তান-সদরঘাট হকারমুক্ত রাখতে কঠোর ডিএসসিসি, বসলে মিলবে শাস্তি সাদিক কায়েম |: অপরাজনীতির করুণ পরিণতি বরণ করতে হবে বিএনপিকে আইইডিসিআর কার্যালয়ে পরিচালককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ মানিক পশারীর কবর খোঁড়া ও দাফন: নেপথ্যের সত্য কী? মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিক্যাল পরীক্ষা শুরু ৩১ অক্টোবর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাছ উপড়ে সাময়িক যান চলাচল বন্ধ