অপরাজনীতির করুণ পরিণতির বিষয়ে বিএনপিকে সতর্ক করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিএনপির বর্তমান কর্মকাণ্ড ও দলটির কঠোর সমালোচনা করেন।
সাদিক কায়েমের ভাষ্যমতে, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে বিএনপির সন্ত্রাসী রাজনীতির শিকার হয়েছেন অসংখ্য সাধারণ মানুষ। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে মিটফোর্ডের পাথরকাণ্ডে সোহাগ নামের একজনের অকাল মৃত্যু পুরো জাতিকে শোকস্তব্ধ করেছিল। সেই রেশ না কাটতেই এবার নাটোর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম নিজের দলেরই ক্যাডারদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির স্থানীয় এমপির দুই ছেলের মধ্যকার বিরোধের কারণেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে। বিএনপির সন্ত্রাসের শিকার মিটফোর্ডে পাথরকাণ্ডে নিহত সোহাগের নিথর দেহ দেখে কেঁদেছিল পুরো দেশ।
স্থানীয় পর্যায়ের এই প্রভাবশালী নেতা নিহত হওয়ার পরও কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও বিএনপির নীরব ভূমিকা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ডাকসু ভিপি। তিনি মন্তব্য করেন, দলীয় স্বার্থ আর রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ যখন মানুষের জীবনের চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়ায় এবং প্রতিবাদ জিম্মি হয়ে পড়ে, তখন সেই প্রতিহিংসার রাজনীতি দেশের জন্য বিপর্যয় বয়ে আনে।
গত দুই বছর ধরে বিএনপির এই বেপরোয়া রাজনীতিতে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বলে দাবি করেন সাদিক। তার মতে, দলীয় ছত্রছায়ায় থাকা নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, কিন্তু তাদের নামেমাত্র বহিষ্কার করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বিএনপিকে অবিলম্বে এই অপরাজনীতি ও সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে হবে, নতুবা জনরোষ ও ঘৃণার মুখে দলটিকে করুণ পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। গত ২ বছরে বিএনপির বেপরোয়া রাজনীতিতে দেশবাসী অতিষ্ঠ। অপরাধ যত গুরুতর হোক না কেন নামেমাত্র বহিষ্কার করে এসব অপরাধীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

