প্রয়াত বাবা সাদেক হোসেন খোকার উত্তরাধিকার হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশের পথ তৈরি হয়েছিল ইশরাক হোসেনের। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম তাকে দিয়েছে নিজস্ব পরিচিতি। অল্প সময়ের মধ্যে সংসদ সদস্য থেকে প্রতিমন্ত্রীও হয়েছেন তিনি। কিন্তু রাজনৈতিক উত্থানের এই পথে বারবার বিতর্কেও জড়িয়েছেন ইশরাক। তার সাহসিকতা যেমন নেতাকর্মীদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে, তেমনি কিছু কর্মকাণ্ড প্রশ্ন তুলেছে রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে।
সর্বশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে তার উপস্থিতি এবং এর জেরে প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ সে প্রশ্নকে আরও সামনে এনেছে। ফলে ইশরাকের রাজনীতি এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে। রাজপথের সাহসকে দায়িত্বশীল নেতৃত্বে রূপ দিতে পারলে তার সামনে সম্ভাবনার দুয়ার খোলা থাকবে। অন্যথায়, নিজের কিছু সিদ্ধান্ত ও আচরণই তার রাজনৈতিক অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সাদেক হোসেন খোকা ছিলেন অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের দীর্ঘকালীন মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। পুরান ঢাকায় তার শক্তিশালী রাজনৈতিক ভিত্তি ছিল। বাবার মৃত্যুর পর সেই উত্তরাধিকারকে সঙ্গী করেই রাজনীতিতে আসেন বড় ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি।
দলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে পদত্যাগ করতে হচ্ছে: ইশরাক
ঢাকা-৬ আসনে মনোনয়ন না পেলেও ২০২০ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হন। নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে ফল প্রত্যাখ্যান করেন ইশরাক। তবে ওই নির্বাচন তাকে জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিতি এনে দেয়। এরপর বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করেন তিনি। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। বর্তমানে দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির ১ নম্বর সদস্য তিনি।
বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নেতাকর্মীদের পাশে থাকার কারণে ইশরাক সাহসী ও কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পুলিশের হাতে আটক এক কর্মীকে ছাড়িয়ে আনার ঘটনাও আলোচনায় আসে। তবে তার কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। সমালোচকদের মতে, কখনো কখনো নিজের ভূমিকা সামনে তুলে ধরার প্রবণতা তার কর্মকাণ্ডে প্রাধান্য পেয়েছে। যেটিকে সাধারণভাবে অনেকে স্টান্টবাজিও বলে থাকেন।

