জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে টোকিও পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান জাপানি প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক সুদৃঢ় করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিধি বাড়ানো এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে আয়োজিত দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের শুরুতে এই আনুষ্ঠানিক স্বাগত জানানো হয়। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১ টায় টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে এসে পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।
অভ্যর্থনা পর্বের পর জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয় এবং প্রধানমন্ত্রী গার্ড পরিদর্শন করেন। পরে দুই প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের একে অপরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর ভবনের মূল ফটকে পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন তারেক রহমান। আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুই রাষ্ট্রপ্রধান একান্ত বৈঠকে মিলিত হন এবং পরবর্তীতে আলোচনার ফলাফল নিয়ে যৌথ ব্রিফিংয়ের কথা রয়েছে। দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেছেন সানায়ে তাকাইচি। দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে আলোচনার ফলাফল নিয়ে দুই নেতা যৌথ ব্রিফিং করবেন।
চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃতীয় বিদেশ সফর। এর আগে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন এবং গত সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন। এবারের সফরে তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা।
সফরের প্রথম দিন সোমবারই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো, মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে। তারো আসোর সঙ্গে বৈঠকে তিনি ২০০৬ সালে জাপানে তাদের সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করেন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে তারো আসোর ভূমিকার প্রশংসা করে তাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। শীর্ষ বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, গুরুত্বপূর্ণ খাতে জাপানের সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় প্রাধান্য পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনায় ইপিএ বাস্তবায়ন, তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি ও উন্নত উৎপাদনশিল্পে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়েছে। একই সঙ্গে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) আধুনিকায়ন ও দেশে দ্বিতীয় সার কারখানা স্থাপনের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। জাইকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের গতি বাড়ানো, দক্ষতা অংশীদারত্ব গড়ে তোলা এবং প্রযুক্তি গ্রাম ও উদ্ভাবন নগরী প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কৃষির আধুনিকায়ন ও হালকা প্রকৌশল শিল্প নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে। কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালকা প্রকৌশলশিল্প এবং জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়গুলোও বৈঠকে গুরুত্ব পায়।
টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ দেখা গেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে মূল সড়কের দুই পাশে বাংলাদেশ ও জাপানের জাতীয় পতাকা টাঙানো হয়েছে। সফরের বাকি দিনগুলোতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন এবং জাপানি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিনিয়োগ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনায় বসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এসময় জাপান ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন এবং পাল্টা শুভেচ্ছা পানপাত্র উত্থাপন করবেন। প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন- ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান।

