কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানী পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ১০ জনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
স্বজনদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে মৃতদেহগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের পর নিখোঁজ থাকা ১১ জনের তালিকায় থাকা স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার সন্ধান এখনও মেলেনি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উখিয়া থানার এসআই রিমন ঘোষ জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষায় ওই ১০ জনেরই পরিচয় পাওয়া গেছে, কিন্তু মুক্তার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ঢাকার দুটি পরিবারের সদস্য রয়েছেন। প্রথম পরিবারে ছিলেন শ্যামলীর গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাদের দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)। দ্বিতীয় পরিবারটিতে ছিলেন ফারিয়া কবির (৩৩), তার ছয় বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর, ফারিয়ার ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪), কাজিন লায়লা জাহান নাবিলা (২৫), ইসরাত জাহান মালিহা (২৭) এবং মৌলিতা মেহজাবিন আলভি (১৯)। তাদের একটি পরিবারের চারজন এবং অন্য পরিবারের ছয়জন।
নিহতদের পরিচয় ও তাদের পরিচিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা গেছে। নাফিস তেহামি, যিনি ‘জেরিফ’ নামেও পরিচিত ছিলেন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। মৌলিতা মেহজাবিন আলভি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে পপুলেশন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ সায়েন্সেস বিষয়ে এবং লায়লা জাহান নাবিলা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে অধ্যয়নরত ছিলেন। তাদের বাড়ি ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায়। ফলে একজনের অবস্থান নিয়ে এখন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
নিখোঁজ নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৭) সাভারের আশুলিয়ায় স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। তার বাবার নাম মোস্তফা কামাল এবং স্বামী দেওয়ান ফয়সাল ঢাকা জেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক নেতা। দুই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজার ভ্রমণে গিয়ে তিনি এই অগ্নিকাণ্ডের শিকার হন। উদ্ধার হওয়া ১০টি লাশের মধ্যে তার ডিএনএ না মেলায় এবং দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরেও তার কোনো তথ্য না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ জানিয়েছেন, তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তথ্য প্রদান করবে।

