কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনিয়া, যার পুরো নাম জোসিমার হোসে এভোরা দিয়াস, ৪০ বছর বয়সে এসে বিশ্ব ফুটবলের আলোচনায় উঠে আসেন। এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে এবং পরবর্তীতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলে তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান। আটলান্টায় স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ইনস্টাগ্রামে মাত্র ৫০ হাজার অনুসারী থাকা এই গোলকিপারের বর্তমানে অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ৭৫ লাখ। মজার ব্যাপার হলো, এই সংখ্যা তাঁর নিজ দেশ কেপ ভার্দের মোট জনসংখ্যার ৫৫ গুণেরও বেশি। এরপর শেষ ষোলোয় লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলেছেন অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত। শেষ পর্যন্ত হারলেও ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটির ফুটবল ইতিহাসে জায়গা করে নেয় দলটি। ২ কোটি ৮৪ লাখের খ্যাতিতে ‘অসহায়’ ভোজিনিয়া। গত মৌসুমেও পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগে খেলেছেন ভোজিনিয়া। ভোজিনিয়া অবশ্য এখনই ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি ভাবতে চান না।
বিশ্বকাপের সেই আবেগঘন মুহূর্তের রেশ কাটতে না কাটতেই জুলাই মাসে তিনি চিলির ক্লাব কোলো কোলোতে যোগ দেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সংখ্যাটা বেড়ে কয়েক মিলিয়ন। কারণ, মাকে বিশ্বকাপের সেই ম্যাচ দেখাতে চেয়েছিলেন গ্যালারিতে বসিয়ে।
১৯৯১ সালের কোপা লিবার্তোদোরেস জয়ী এই ক্লাবে যখন তিনি যোগ দেন, তখন তাঁকে ঘিরে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা ছিল। অবশ্য এই খ্যাতির পেছনে ছিল আবেগের গল্পও। দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম সফল এই ক্লাব ১৯৯১ সালে জিতেছিল কোপা লিবার্তোদোরেস। ছেলের জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তটি তাই মা দেখতে পারেননি সামনে বসে।
হাজার হাজার সমর্থকের উপস্থিতিতে এসতাদিও মনুমেন্তালে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। তবে ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর মাঠের পরিস্থিতি তাঁর জন্য সুখকর হয়নি। নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত দলটির খেলা ১৪টি ম্যাচের মধ্যে তিনি সুযোগ পেয়েছেন মাত্র ৫টিতে। এর মধ্যে ৩টি গোল হজম করতে হয়েছে তাঁকে। দলটির বর্তমান গোলকিপার হিসেবে ১৯ বছর বয়সী চিলিয়ান গ্যাব্রিয়েল মাওরেইরাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন কোচ। বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট স্পেনকে নিজেদের প্রথম ম্যাচে গোল করতে দেননি। কোলো কোলোতে গিয়ে নভেম্বরের শুরু পর্যন্ত সম্ভাব্য ১৪ ম্যাচের মাত্র পাঁচটিতে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু কোলো কোলো ক্লাবের এখনো প্রথম পছন্দ তাদের ১৯ বছর বয়সী চিলিয়ান গোলকিপার গ্যাব্রিয়েল মাওরেইরা।
আগামীকাল নুবলেনসের বিপক্ষে ম্যাচেও ভোজিনিয়ার বেঞ্চে থাকার সম্ভাবনা প্রবল। নিজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, তিনি লিবার্তোদোরেসে খেলার উদ্দেশ্য নিয়েই চিলিতে এসেছেন। তবে এখন তাঁর সমস্ত মনোযোগ এই সপ্তাহের খেলার দিকে। ভোজিনিয়ার ছয় মাসের চুক্তিতে নির্দিষ্ট সময় খেলার শর্তে মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও, চিলির সংবাদমাধ্যমে ২০২৭ সালে তিনি আদৌ দলে থাকবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমি এখানে এসেছিলাম লিবার্তোদোরেসে খেলার উদ্দেশ্য নিয়ে। তবে নির্দিষ্টসংখ্যক মিনিট খেলতে পারলে আরও এক বছর বাড়ানোর সুযোগ আছে। ভোজিনিয়ার জন্য নিয়ম বদল, ব্যবহার করতে পারবেন ডাকনাম। আর সমন্বয় না থাকলে কখনোই আপনি ভালো করতে পারবেন না। তার মানে ভোজিনিয়ার ভবিষ্যৎ আসলে এখন অনেকটাই অনিশ্চিত। কী আছে তাঁর কপালে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।
দলের কিংবদন্তি খেলোয়াড় এবং বার্সেলোনা ও ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক গোলকিপার ক্লদিও ব্রাভো ভোজিনিয়ার সক্ষমতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। ব্রাভোর মতে, সতীর্থ খেলোয়াড়দের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাবে ভোজিনিয়া বেশ কয়েকটি ভুল করেছেন। এই সমালোচনা এবং একাদশে অনিয়মিত হওয়ার ফলে ডিসেম্বরের শেষে ভোজিনিয়াকে নতুন ক্লাব খুঁজতে হতে পারে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। বিশ্বকাপের সেই রূপকথার নায়ক এখন চিলির লিগের শিরোপা লড়াইয়ে দলের বেঞ্চেই সময় কাটাচ্ছেন। বিশ্বকাপের পর জীবনটা আরও বদলে যায় ভোজিনিয়ার। ভোজিনিয়াকে বরং সমালোচনাই শুনতে হচ্ছে বেশি। কোলো কোলো যদি তাঁর চুক্তি না বাড়ায়, তাহলে ডিসেম্বরের শেষেই হয়তো নতুন ক্লাব খুঁজতে হবে ভোজিনিয়াকে।

