রাজধানীর মিরপুর ১২ নম্বরে গড়ে উঠেছে দেশের প্রথম প্রিমিয়াম ইলুশন ও ইমারসিভ এন্টারটেইনমেন্ট মিউজিয়াম ‘ওয়াওজা’। হাজী কুজরাত আলী মোল্লা মার্কেটের চতুর্থ তলায় অবস্থিত এই বিনোদনকেন্দ্রটি উদ্বোধনের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই নগরবাসীর নজর কেড়েছে। অপটিক্যাল ইলুশন ও থ্রিডি আর্টের সমন্বয়ে সাজানো এই কেন্দ্রটি সব বয়সীর জন্য একটি অনন্য অভিজ্ঞতা প্রদান করছে। ওয়াওজা এন্টারটেইনমেন্ট মিউজিয়াম হলেও এতে আছে নানা ধরনের গেম ও অ্যাক্টিভিটি সেগমেন্ট, যা একে অন্য যেকোনো বিনোদনকেন্দ্র থেকে আলাদা করে তুলেছে। এমন অসম্ভবকে সম্ভব করেছে মিরপুর ১২ নম্বরে অবস্থিত সদ্য চালু হওয়া চিত্তবিনোদনকেন্দ্র ওয়াওজা। বেশ কয়েকজন তরুণের সম্মিলিত উদ্যোগ এই ওয়াওজা। এমন নানা উদ্যোগ এখন দেশে দেখা গেলেও এই তরুণদের মতে, ওয়াওজা সেসব থেকে আলাদা। সত্যি বলতে এখানেও ভিন্নতা এনেছে ওয়াওজা।
ওয়াওজার ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর হৃদয় চৌধুরী জানান, দুই-তিন বছরের শিশু থেকে শুরু করে যেকোনো বয়সী মানুষের কথা মাথায় রেখে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের মূল স্লোগান হলো ‘এক্সপেরিয়েন্স দ্য আনরিয়েল’। এটি তৈরিতে অনুপ্রাণিত হয়েছেন থাইল্যান্ড ও নেপালের মতো দেশের অপটিক্যাল ইলুশন মিউজিয়াম থেকে, যেখানে ভ্রমণপিপাসুরা ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতার স্বাদ নিতে পারেন।
এই মিউজিয়ামের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো ‘ভর্টেক্স টানেল’। অন্ধকার ঘেরা একটি সুড়ঙ্গে লাল-নীল আলোর খেলায় পায়ের নিচের মাটি সরে যাওয়ার অনুভূতি তৈরি হয়, যা দর্শনার্থীদের দেয় অন্য এক জগতে হারিয়ে যাওয়ার অনুভূতি। এছাড়া রয়েছে ‘শ্যাডো ড্যান্স’ জোন, যেখানে মাইকেল জ্যাকসন বা হাল্কের মতো চরিত্র বেছে নেওয়ার পর ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে সেই চরিত্রের অঙ্গভঙ্গি অনুকরণ করতে হয়। ধরুন আপনি দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু আপনার পায়ের নিচের মাটি নিজ থেকেই সরে যাচ্ছে, মনে হতে পারে এ কী করে সম্ভব। আরেকটু সামনে গিয়ে দেখতে পেলেন আপনার সামনে দাঁড়িয়ে আছে হুবহু আরও কয়েকখানা আপনি। মনে হতেই পারে আপনি হয়তো স্বপ্ন দেখছেন, ঘুমটা বুঝি এখনই ভাঙল। দেওয়া হবে ৩০ সেকেন্ড সময়। কিছুটা বাঁকানো এই ঘরে অবিকল চাঁদে পা রাখার মতো অনুভূতি পাবেন। শুধু খুঁজে পাওয়া যাবে আপনার মুখখানা। মূলত দেয়ালের মতো হুবহু দেখতে একটি পোশাক আছে এই জাদুর পেছনে, সঙ্গে চোখের ধোঁকা। শুধু তাই নয়, অন্যদিকে তাকালে আয়নার জাদুতে আপনি পরিণত হবেন কয়েক খানায়। দূর থেকে দেখলে মনে হবে জীবন্ত এক শহর, আপনার সঙ্গেই যা হাঁটছে।
চাঁদে হাঁটার রোমাঞ্চ পেতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন ‘টিল্ট রুম’ থেকে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অভিজ্ঞতাকে আরও বাস্তব করতে খুব শিগগিরই নভোচারীদের পোশাক যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি ‘অ্যামস রুম’ নামের বিশেষ ঘরে দৃষ্টিভ্রমের কারণে মানুষকে দৈত্যাকার কিংবা অতি ক্ষুদ্রাকৃতির দেখায়, যা ছবি তোলার জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়। ঘোরাঘুরি কিংবা ব্যবসার কাজে কোনো দেশ ভ্রমণে গেলে প্রথমেই যে কেউ সেখানকার দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে চান। মা–বাবা, ভাই-বোন কিংবা দম্পতি—ছবির জন্য সবার পছন্দ এই ঘর।
‘ক্যামোফ্লাজ রুম’ এমন একটি স্থান যেখানে অপটিক্যাল ইলুশনের মাধ্যমে দর্শনার্থী অদৃশ্য হয়ে গিয়ে কেবল মুখমণ্ডল দৃশ্যমান রাখে।
এর পাশাপাশি আয়নার কারসাজিতে নিজেকে বহুগুণে দেখার সুযোগও রয়েছে এখানে। পুরো মিউজিয়ামজুড়ে রয়েছে নানা থ্রিডি ও পারস্পেকটিভ ওয়াল আর্ট, যা জীবন্ত সব দৃশ্যের অবতারণা করে। মিরর মেইজের ভেতরে শত শত প্রতিচ্ছবির সঙ্গে সূর্যমুখীর বাগান ও আলোর খেলা অন্যরকম আবহ তৈরি করে। এই ভেবে যখন দু কদম যাবেন, ঠিক তখনই নিজেকে আবিষ্কার করলেন চাঁদের মাটিতে। এই থ্রিডি, পারস্পেকটিভ ওয়াল আর্টসের মধ্যে আপনাকে সবচেয়ে বেশি ধাঁধায় ফেলবে রঙিন এক শহরের দৃশ্য।
শুধুমাত্র দেখার বিষয়বস্তু নয়, ওয়াওজায় রয়েছে ইন্টারঅ্যাকটিভ গেমসের ব্যবস্থাও। লাল-নীল ব্লকের খেলা থেকে শুরু করে নাটাই দিয়ে ঘুড়ি ওড়ানোর মতো ডিজিটাল গেমগুলো ছোট-বড় সবাই উপভোগ করতে পারছেন। ইনডোর এবং আউটডোর গেমসের এক মিশ্র অনুভূতি এখানে একই ছাদের নিচে পাওয়া সম্ভব।
ওয়াওজায় প্রবেশের জন্য জনপ্রতি ৫০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে, এর সঙ্গে যুক্ত হবে ১৫ শতাংশ ভ্যাট। প্রতিটি টিকেটের মেয়াদ থাকে এক ঘণ্টা, যা স্লটভিত্তিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। এই এক ঘণ্টার মধ্যে দর্শনার্থীরা মিউজিয়ামের সব গেমস ও অ্যাক্টিভিটি যতবার ইচ্ছা উপভোগ করতে পারেন। সিঙ্গেল পাসের পাশাপাশি বিভিন্ন প্যাকেজের ব্যবস্থাও রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে এই বিনোদনকেন্দ্র। মিরপুর অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য এটি একটি ভিন্নধর্মী চিত্তবিনোদনের ঠিকানা হয়ে উঠেছে। নিয়মিত কর্মীদের সহায়তায় দর্শনার্থীরা এখানে ছবি তোলা ও বিভিন্ন ইলুশন বুঝে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, যা তাদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দদায়ক করে তুলছে। উদ্যোক্তাদের মতে, এটি ইতিমধ্যে দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

