গেবেখা টেস্টের চতুর্থ দিনে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ইনিংস হারের শঙ্কায় পড়েছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ইনিংসে ১ উইকেটে ৩ রান নিয়ে খেলতে নেমে সফরকারীরা অলআউট হয় মাত্র ৯৯ রানে। দলের কোনো ব্যাটার ৩০ রানও ছুঁতে পারেননি, সর্বোচ্চ ২৮ রান আসে স্টিভ স্মিথের ব্যাট থেকে। ফলে ৩২৬ রানের বিশাল লিড পেয়ে অজিদের ফলোঅন করায় আয়োজক দলের অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা। গেবেখা টেস্টের চতুর্থ দিনটা যেন দুঃস্বপ্নের মতো কাটল অস্ট্রেলিয়ার। অস্ট্রেলিয়ার কোনো ব্যাটসম্যান ৩০ রানেও পৌঁছাতে পারেননি। দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেটে ৪২৫ রান করে ইনিংস ঘোষণা করেছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এখনো অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করছেন হেড।
অস্ট্রেলিয়াকে কম রানে গুটিয়ে দেওয়ার পেছনে মূল ভূমিকা রাখেন প্রোটিয়া বাঁহাতি পেসার মার্কো ইয়ানসেন, যিনি ৩৩ রানে ৫টি উইকেট শিকার করেন। এ ছাড়া কাগিসো রাবাদা ও উইয়ান মুল্ডার দুটি করে উইকেট নেন। ফলশ্রুতিতে প্যাট কামিন্সদের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে যায় মাত্র ৪২.৪ ওভারে। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দিনশেষে ৪ উইকেটে ১৫৬ রান তুলেছে অস্ট্রেলিয়া, তবে দলটি এখনো ১৭০ রানে পিছিয়ে আছে। ফলোঅনে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসেও ৪ উইকেট হারিয়েছে তারা। প্রথম ইনিংসে ৩৩ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়ার এক দিনে ১৩ উইকেট হারানোর ঘটনা অত্যন্ত বিরল। এর আগে ১৯৫৪-৫৫ মৌসুমে অ্যাশেজে সিডনি টেস্টে এক দিনে ১৩টি উইকেট হারিয়েছিল অজিরা। দীর্ঘ সময় পর আবারও এমন ব্যাটিং ধসের সম্মুখীন হলো ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি দেশটি।
দ্বিতীয় ইনিংসে নিক ম্যাডিনসন মাত্র ৮ রান করে সাজঘরে ফেরার পর দলের হাল ধরেন ট্রাভিস হেড ও মারনাস লাবুশেন। দ্বিতীয় উইকেটে এই যুগল যোগ করেন ৯২ রান। লাবুশেন ৩৯ রানে স্পিনার সাইমন হারমারের শিকার হলে ভাঙে এই জুটি। এরপর হারমার বো ওয়েবস্টারকেও আউট করেন এবং তার আগেই রাবাদার বলে বিদায় নেন ম্যাট রেনশ।
এক প্রান্ত ধরে রেখে ১৩৮ বলে ৮৭ রানে অপরাজিত থেকে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বাঁহাতি ব্যাটার ট্রাভিস হেড। ৯ রানে থাকা অবস্থায় ইয়ানসেন তাঁর সহজ ক্যাচ না ফেললে আরও বিপদে পড়তে হতো সফরকারীদের। অন্যদিকে ঘাড়ের ইনজুরির কারণে স্টিভ স্মিথ দ্বিতীয় ইনিংসে নিজের নিয়মিত চার নম্বর পজিশনে ব্যাট করতে পারেননি। পঞ্চম দিনে অজিদের মূল লক্ষ্য ইনিংস পরাজয় এড়ানো, যেখানে স্বাগতিকদের জয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজন মাত্র ৬টি উইকেট। দিনের শুরুতে ৯ রানে থাকতে ইয়ানসেনের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়েও বেঁচে গিয়েছিলেন তিনি। ম্যাকগ্রাকে ছাড়িয়ে স্টার্কের নতুন ইতিহাস।

