রাজধানীর রায়েরবাজারে কৃষি মার্কেটের সামনে একটি কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যানে বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে সংঘটিত এ হামলায় গাড়ির চালক আহত হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির সহকারী ব্যবস্থাপক জয়ন্ত চৌধুরী জানিয়েছেন, গাড়িতে থাকা ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ সাধারণ গ্রাহকদের পার্সেলগুলো আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বেড়িবাঁধ সড়ক দিয়ে হাজারীবাগের দিকে যাওয়ার পথে ১০ থেকে ১২টি মোটরসাইকেলে আসা একদল দুর্বৃত্ত ভ্যানটি থামিয়ে ভাঙচুর চালায় এবং পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে। প্রত্যক্ষদর্শী ও এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মীদের ভাষ্য, বেড়িবাঁধ সড়ক দিয়ে হাজারীবাগের দিকে যাওয়ার সময় ১০ থেকে ১২টি মোটরসাইকেলে একদল ব্যক্তি এসে কাভার্ড ভ্যানটিতে হামলা চালান। প্রতিষ্ঠানটিতে ধারাবাহিকভাবে হামলা, ভাঙচুর করা হচ্ছে।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল হালিম জানিয়েছেন, এই হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। এর আগেও একাধিকবার এই কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয় ও গাড়িতে ধারাবাহিক হামলার অভিযোগ রয়েছে। গত ২০ অক্টোবর হাজারীবাগের অফিসে ভাঙচুর ও লুটপাটের সময় হামলাকারীরা সিসিটিভি ক্যামেরা ও ফুটেজ সংরক্ষণের যন্ত্র নিয়ে যায় এবং ৩১ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের পরিচয় দিয়ে জমির ভাড়ার দাবিতে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল তাদের। গত ২০ অক্টোবর হাজারীবাগে সিকদার মেডিকেল কলেজসংলগ্ন প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় ১১ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।
ধারাবাহিক এসব অপরাধের মধ্যে গত ২৫ অক্টোবর হাজারীবাগের গুদামে আগুন দেওয়ার চেষ্টার পাশাপাশি এক কর্মীকে মারধর করে মুঠোফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে ২৫ অক্টোবর ভোরে হাজারীবাগের গুদামে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার চেষ্টা হয়।
এরপর ৩১ অক্টোবর রাতে মেয়র হানিফ উড়ালসড়কের টোল প্লাজা, মৎস্য ভবন এবং রায়েরবাগ এলাকায় তিনটি গাড়িতে একই ধরনের ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয়, যেখানে মৎস্য ভবনের ঘটনায় চালক গুরুতর আহত হয়েছিলেন। এছাড়া গত মঙ্গলবার মিরপুর-১১ নম্বরের চলন্তিকা মোড়ে কুরিয়ার সার্ভিসটির কার্যালয়ের সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, যাতে একজন কর্মী আহত হন। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকা প্রতিষ্ঠানটি প্রশাসনের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছে। গাড়িতে থাকা মালপত্র ও নথি পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

