মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ ও করণীয় বিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন জানিয়েছেন, মাদকের বিরুদ্ধে তার লড়াই অব্যাহত থাকবে। শুক্রবার রাজধানীর তোপখানা রোডের সিরডাপ মিলনায়তনে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। তিনি অভিযোগ করেন, মাদকের বিভিন্ন হটস্পটে কিছু কুচক্রী মহল রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা কারবারির রাজনীতি করার অধিকার নেই বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদকের সঙ্গে যাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে তাদের মুখোশ খুলে বিচারের আওতায় আনা জরুরি। মাদকের সঙ্গে কারো রাজনতৈক সংশ্লিষ্টতা থাকলে তার মুখোশ উন্মোচন করে বিচারের মুখোমুখি করা উচিৎ। তাই রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কোন মাদক কারবারি যাতে সুবিধা নিতে না পারে সে ব্যপারে সরকারকে সজাগ থাকতে হবে।
ইশরাক হোসেন বলেন, দেশের সীমান্ত এলাকা দিয়ে নানা কৌশলে মাদক ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে কিছু ভূঁইফোড় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ও নামকরা পরিবহনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। একটি গোষ্ঠী ভূ-রাজনীতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সমাজ ও জাতিকে ধ্বংস করতে চাইছে। তিনি রামিসা হত্যাকাণ্ড এবং ঐশীর ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, মাদকের ভয়াবহ প্রভাবে সমাজে নৃশংস অপরাধ বাড়ছে। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে এই সংকট মোকাবিলায় এগিয়ে আসতে হবে। ইশরাক হোসেন বলেন, বর্ডার অঞ্চল থেকে নানারকম কারসাজি করে সারাদেশে মাদক ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। একইসাথে কিছু ভূঁইফোড় ফামার্সিউটিক্যাল কোম্পানীও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। যারা মাদকাসক্ত তারা জঘন্য নৃশংস অপরাধের সঙ্গে জড়িত। আমরা শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড দেখেছি, বহুল আলোচিত ঐশির ঘটনাও জানি। মাদকের বিরূপ প্রভাবের কারণে এই ধরনের জঘন্য হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এমনকি অনলাইনে অর্ডার দিলে ঘরে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে মাদকদ্রব্য।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, মাদকের সহজলভ্যতা এর বিস্তার বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্যের মাদক এখন পাড়া-মহল্লায় পৌঁছে গেছে। অনলাইনে অর্ডারের মাধ্যমেও মাদক পাওয়া যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। তিনি আরও বলেন, অপরাধের সঙ্গে মাদকের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীরা ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক রঙ বদলে ফেলে। তাই সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করলেও রাজনৈতিক পরিচয়ে যেন কেউ পার না পায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ইয়াবা এখন শহর থেকে গ্রামÑগঞ্জে, পাড়াÑমহল্লায় মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে।
অনুষ্ঠানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ, মনোচিকিৎসা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম এ মোহিত কামাল, সাংবাদিক শাহ আজিজুর রহমান কিরণ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মো. মুন্না হুসাইন এবং ইডেন মহিলা কলেজ বিতর্ক দলের দলনেতা মাসনুন নাবিলা আলম বক্তব্য রাখেন।

