ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মামলার আসামি আনোয়ার হোসেনকে ঘিরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তাকে বিএনপির দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে দাবি করে একটি তৈরি করা পোস্টার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনীতিক ও আমজনতার মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পোস্টারটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
তদন্তে দেখা গেছে, ২০২১ সালের ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে নবীনগর উপজেলার ২ নম্বর বীরগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সহসম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন নৌকা প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করেন। সে সময় সাবেক সংসদ সদস্য এবাদুল করিম বুলবুল, সাবেক সংসদ সদস্য ফয়জুর রহমান বাদল এবং শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত নির্বাচনী প্রচার সামগ্রী প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
তবে সম্প্রতি এডিট করা এক নতুন ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যেখানে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং স্থানীয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নানের ছবি রয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, আগামী বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক যুবনেতা ও বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন। শুধু প্রচারপত্র নয়, ওই ইউপি চেয়ারম্যানের বাসভবনে বিএনপির এমপি মান্নানের উপস্থিতির একটি ভিডিও ইন্টারনেটে প্রকাশ পেয়েছে। ওই পোস্টারের সঙ্গে সম্পাদনা করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি নতুন পোস্টারে দেখা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের এমপি ও উপজে।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় দায়েরকৃত একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হওয়ার পরও আনোয়ার হোসেন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, আনোয়ার হোসেন নিজের এলাকায় বীরদর্পে চলছেন এবং আসন্ন ইউপি নির্বাচনের জন্য প্রকাশ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছেন। এমনকি বিভিন্ন সভায় তিনি দাবি করছেন যে এমপির নির্দেশেই তিনি কাজ করছেন, যা কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসিত করার প্রক্রিয়া এবং এতে ত্যাগী নেতাকর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। মূলত আনোয়ার হোসেন নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগকে গোপনে সংগঠিত করছেন। ফলে চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের অদৃশ্য ক্ষমতার দাপটে বীরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির নির্যাতিত ও নিপীড়িত নেতাকর্মীরা দিন দিন কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন।
তবে বিএনপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। জেলা বিএনপির সদস্য মাসুদুল ইসলাম মোবাইল ফোনে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা এই পোস্টারটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে বানানো হয়েছে। আনোয়ার হোসেন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত এবং নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত, সুতরাং তার সাথে বিএনপির কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক থাকার প্রশ্নই ওঠে না। এমপির তার বাসায় যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি ব্যাখ্যা দেন, একটি অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে এমপি সাহেব মানবিক কারণে আনোয়ার হোসেনের অসুস্থ মাকে দেখতে গিয়েছিলেন এবং সেই সময় তিনি নিজেও সঙ্গে ছিলেন। এর বাইরে অন্য কোনো বিষয় বা রাজনৈতিক সমীকরণ নেই। তিনি কার ছত্রছায়ায় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
অন্যদিকে অপপ্রচারের বিষয়টি নাকচ করে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে বক্তব্য দিয়েছেন চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। গত বুধবার এক পোস্টে তিনি লেখেন, এমপি আবদুল মান্নানের সঙ্গে তার ছবি ও নাম যুক্ত করে একটি মহল মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। তিনি বা তার কোনো সমর্থক এ ধরনের কোনো পোস্টার তৈরি কিংবা প্রচারের সঙ্গে জড়িত নন বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন।

