জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ভারতের বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন বর্ষীয়ান বলিউড অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি নিজেকে গর্বের সঙ্গে ‘দিমাগি নকশাল’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভিন্নমতাবলম্বীদের দমানোর জন্য সরকার নতুন নতুন শব্দ উদ্ভাবন করছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দেশজুড়ে যদি সত্যিই এমন কোনো গোষ্ঠী থাকে যারা ভারতকে ভেঙে ফেলতে চায়, তবে সেই গোষ্ঠীটি হলো বর্তমান সরকার। ‘দেশবিরোধী’ কিংবা ‘টুকরে-টুকরে গ্যাং’-এর মতো শব্দগুলোর উল্লেখ করে তিনি বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সরকারের নীতি ও কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন। তার মতে, তরুণদের মনোবল ভেঙে দেওয়া, শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল করে তোলা এবং গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়াই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।
জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ), সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট এবং জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন এই শিল্পী। জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৬ সালে বিলুপ্ত হওয়া নির্বাচিত ছাত্র সংসদ পুনর্বহালের দাবিতে চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বুধবার ১৭তম দিনে গড়িয়েছে। ক্যাম্পাসে ভাঙচুর ও সহিংসতার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কোনোভাবেই বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না।
ভিডিও বার্তায় নাসিরুদ্দিন শাহ আরও অভিযোগ করেন যে, জেএনইউ ও সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ইনস্টিটিউটের পর এখন জামিয়ার শিক্ষার্থীদের টার্গেট করা হচ্ছে। বিজেপি আইটি সেলের সদস্যদের অযোগ্য ও অশিক্ষিত বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে তরুণ প্রজন্মের মনোবল ভাঙতে সরকার সফল হবে না। এই অস্থিরতার সময়েও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দেশের গণতন্ত্র শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে। পুরো বিষয়টি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

