সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছেন তাওহিদ হৃদয়। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়ে গড়া এই অপরাজিত ২৪২ রানের ইনিংসটি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক নতুন উচ্চতা যোগ করেছে। পুরো দলের ৩৮৬ রানের সংগ্রহে হৃদয়ের অবদান ৬২.৬৯ শতাংশ, যা টেস্ট ক্রিকেটে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত অবদান। এই ইনিংসের সুবাদে মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের পর চতুর্থ বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরির এলিট ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন তিনি। সংখ্যায় সংখ্যায় দেখে নেওয়া যাক হৃদয়ের গড়া সেই রেকর্ডগুলো: ১: প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকে ডাবলে রূপ দেওয়ার কীর্তি গড়েছেন হৃদয়। টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করা চতুর্থ বাংলাদেশি ব্যাটার হৃদয়। 4.
রেকর্ড ভাঙার দিনে ছক্কার বৃষ্টি ঝরিয়েছেন হৃদয়। ইনিংসে ১১টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনি, যা টেস্টের এক ইনিংসে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে তামিম ইকবালের ৭ ছক্কার পুরনো রেকর্ড পেছনে ফেলে হৃদয় এখন যৌথভাবে বিশ্ব ক্রিকেটের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছক্কার মালিক। শুধু ছক্কা নয়, ২২টি চারের মারও ছিল তাঁর ইনিংসে। এই ১১টি ছক্কা ও ২২টি চারে বাউন্ডারি থেকেই এসেছে ১৫৪ রান, যা দেশের ক্রিকেটে এক ইনিংসে বাউন্ডারি থেকে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের নতুন নজির। টেস্টের এক ইনিংসে এতদিন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭টি ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ড ছিল তামিম ইকবালের (২০১৫ সালে খুলনায় পাকিস্তানের বিপক্ষে)। 11, 2015. এই ইনিংসে তার মারা ১১ ছক্কা ও ২২ চারে বাউন্ডারি থেকেই এসেছে ১৫৪ রান, যা বাংলাদেশের হয়ে এক ইনিংসে বাউন্ডারিতে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।
ব্যক্তিগত রানের দিক দিয়েও হৃদয় ছাড়িয়ে গেছেন সবাইকে। এর আগে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি ছিল ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মুশফিকুর রহিমের ২১৯ রান। এবার হৃদয় ২৪২ রান করে সেই রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন। এমনকি সিলেটে খেলা টেস্টগুলোতে বাংলাদেশিদের মধ্যে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটিও এখন তাঁর দখলে। তিনি পেছনে ফেলেছেন ২০২৫ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাহমুদুল হাসান জয়ের ১৭১ রানের ইনিংসকেও। এর আগে ২০১৮ সালে মিরপুর টেস্টে ১৩৮ রান করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ।
দলীয় স্কোরেও বড় প্রভাব ফেলেছে হৃদয়ের এই মহাকাব্যিক ইনিংস। দলীয় ১৮৪ রানে সপ্তম উইকেট পতনের পর শেষ তিন উইকেটে বাংলাদেশ ২০২ রান যোগ করে, যা টেস্টে শেষ উইকেটের জুটিতে বাংলাদেশের ইতিহাসসেরা পারফরম্যান্স। এছাড়া তৃতীয় দিনের শুরুতে ২৯ রানে ব্যাটিংয়ে নেমে হৃদয় সেদিন মোট ২১৩ রান তুলেছেন, যা এক দিনে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ড।

