আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফর করবেন। এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফরের প্রাক্কালে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলীকে দেশে ফেরার নির্দেশ দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নির্দেশনা পাওয়ার পর তিনি ইতোমধ্যে ঢাকায় ফিরেছেন এবং প্রায় এক সপ্তাহ ধরে অবস্থান করছেন।
রাষ্ট্রদূতের অনুপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর সফরকালীন কূটনৈতিক বিষয় ও সার্বিক সমন্বয়ের মূল দায়িত্ব পালনের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয় বিষয়াবলি) মো. নজরুল ইসলামকে টোকিও পাঠানো হয়েছে। তিনি বুধবার টোকিওতে পৌঁছেছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবেন। অর্পিত দায়িত্ব পালনে বুধবার (২২ অক্টোবর) টোকিও যান সচিব নজরুল ইসলাম।
সরকারি কোনো উচ্চপর্যায়ের সফরের সময় সংশ্লিষ্ট দেশের রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফিরিয়ে আনার ঘটনা সাধারণত বিরল।
একজন সরকারি কর্মকর্তা জানান, এই সফরকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রদূতকে ফেরানোর নির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ১৫তম বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা দাউদ আলীর আগামী ৭ ডিসেম্বর অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার কথা রয়েছে। কী কারণে ফেরানো হয়েছে তা বলতে পারবো না। দাঊদ আলী ১৫তম বিসিএসের পররাষ্ট্র ক্যাডার।
জাপানি প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন। উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর দুই সরকারপ্রধানের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন জাপানি প্রধানমন্ত্রী।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রত্যাশা অনুযায়ী, এই সফর দুই দেশের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর করবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি বা ইপিএ বাস্তবায়ন, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ, বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার করা এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
এছাড়াও দুইপক্ষের মধ্যে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা স্মারক ও চুক্তির খসড়া নিয়ে আলোচনা চলছে। সফরের সময় একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সফরে বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, আলোচনার তালিকায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর এবং মানবসম্পদ প্রশিক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রসারের জন্য এই সফর বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

