জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর করা এবং যৌথ সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। মঙ্গলবার নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে এক বার্তায় তিনি এই আশাবাদ জানান। এর আগে টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কানতেই’-এ জাপান সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তার দ্বিপাক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর তাকাইচি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় তারেক রহমানকে ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানাতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বাংলাদেশ এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের রাষ্ট্রগঠনের উদ্যোগে জাপান জোরালো সমর্থন অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি। গণতান্ত্রিক সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা তারেক রহমান সরকারের রাষ্ট্রগঠন প্রচেষ্টায় জাপান জোরাল সমর্থন দেবে।
উভয় দেশ এখন থেকে তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রধান ভিত্তি হিসেবে বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয়কে ‘বিগ-বি’ বা ‘অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিগ-বি’ নামক কৌশলগত উদ্যোগে উন্নীত করতে একমত হয়েছে। তারেক রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাপানের দ্রুত স্বীকৃতি ও বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করে বলেন, জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সানায়ে তাকাইচি জানান, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে (এফওআইপি) শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এবং কৌশলগত ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের গুরুত্ব অপরিসীম। তাছাড়া ১৭ কোটি মানুষের বিশাল বাজার বাংলাদেশের অর্থনীতিকে জাপানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী কৌশলগত অবস্থান এবং ১৭ কোটি মানুষের বৃহৎ বাজারের কারণে জাপানের অর্থনীতির জন্য বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করে সানায়ে তাকাইচি।
বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ ঘোষণায় জানানো হয়েছে, কৌশলগত অংশীদারত্বের অংশ হিসেবে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। এই নতুন কাঠামোর আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দরসহ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়নে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালানো হবে। পাশাপাশি বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই অংশীদারত্বের চারটি মূল স্তম্ভ রয়েছে—যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ভূ-রাজনৈতিক ও প্রাকৃতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা। যৌথ ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জাপানের বেসরকারি খাত বাংলাদেশে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ করতে পারে। এই বিনিয়োগের ফলে বাংলাদেশে প্রায় দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুই প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে জাপান ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল। অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বাণিজ্য প্রসারে ভবিষ্যতে উভয় দেশের সহযোগিতামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে বলে যৌথ ঘোষণায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

