মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় থেকে আজ মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হচ্ছে।
ট্রাইব্যুনালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায়ে উল্লিখিত এই দুই ব্যক্তির মোট সম্পত্তির অর্ধেক শনাক্ত করে তা বাজেয়াপ্ত করা হবে। পরবর্তীতে সরকারি বিধি মোতাবেক নিলাম কিংবা অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সম্পদ বিক্রির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিক্রয়লব্ধ এই অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন বা কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের পুনর্বাসনে ব্যয় করা হবে।
চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, কেবল এই দুজনই নয়, ট্রাইব্যুনাল থেকে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশপ্রাপ্ত অন্যান্য দণ্ডিতদের মধ্যে যাদের আপিল করার সময়সীমা ইতিমধ্যেই অতিবাহিত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও পর্যায়ক্রমে একই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। সেই রায়েই তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সেই আদেশ কার্যকর করতেই এখন সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ শুরু করেছে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়।

