গ্রামকে মূলধারায় যুক্ত না করলে উন্নয়ন টেকসই হবে না

দেশের এক বিশাল জনগোষ্ঠী গ্রামাঞ্চলে বসবাস করলেও জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা, কর্মসংস্থান ভাবনা ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তাদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা ও আকাঙ্ক্ষা প্রায়ই যথাযথ গুরুত্ব পায় না। গত কয়েক দশকে দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটেছে, কৃষিতে উৎপাদন বেড়েছে এবং যোগাযোগ অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও প্রান্তিক পর্যায়ে গুণগত শিক্ষা, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা, স্থায়ী কর্মসংস্থান ও ন্যায়বিচারের সুবিধা এখনো বেশ সীমিত। এই অসামঞ্জস্য কেবল আয়বৈষম্য বাড়াচ্ছে না, বরং রাষ্ট্রের প্রতি সাধারণ নাগরিকের আস্থা ও অংশগ্রহণের সংযোগকেও দুর্বল করছে।

জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষি খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক বীজ, সেচ ব্যবস্থা, যান্ত্রিকীকরণ এবং কৃষকের কঠোর পরিশ্রমে ফলন বাড়লেও সে অনুযায়ী কৃষকের নিচ্ছক আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে না। উচ্চ উৎপাদন খরচ, মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট, উপযুক্ত সংরক্ষণাগারের অভাব এবং বাজারে দরদাম করার দর-কষাকষির সুযোগ না থাকায় প্রান্তিক উৎপাদকেরা কাঙ্ক্ষিত মুনাফা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর ওপর জমির খণ্ডায়ন ও জনসংখ্যার চাপে গ্রামীণ পরিবারগুলোর জীবিকা সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ফলে তরুণ প্রজন্ম কৃষিতে ভবিষ্যৎ না দেখে শহরমুখী হলেও সেখানে পর্যাপ্ত মানসম্মত কর্মসংস্থান মিলছে না।

কৃষি থেকে শিল্প ও সেবামুখী অর্থনীতির দিকে ধাবিত হওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে এই অর্থনৈতিক পরিবর্তনের খেসারত যাতে নিম্ন আয়ের মানুষ একা না দেয়, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। তাই দারিদ্র্য নিরসন, সামাজিক সুরক্ষা, দক্ষতা বৃদ্ধি ও গ্রামীণ কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগগুলোকে পৃথক প্রকল্প হিসেবে না দেখে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, অপর্যাপ্ত তদারকি ও জবাবদিহির ঘাটতির কারণে বিভিন্ন সরকারি সুবিধার সুফল প্রকৃত মানুষের কাছে পৌঁছায় না।

স্থানীয় পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ, প্রশাসন, আদালত কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যখন দীর্ঘসূত্রতা, হয়রানি বা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর দাপটের মুখোমুখি হন, তখন রাষ্ট্র জনসেবার বদলে দূরত্বের প্রতীকে পরিণত হয়। এ পরিস্থিতি বদলাতে কেবল সরকারি বরাদ্দ বাড়ানোই সমাধান নয়; একই সঙ্গে সেবার মানোন্নয়ন, অভিযোগ সমাধানের প্রাতিষ্ঠানিক পথ এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য প্রকাশ ও সামাজিক নিরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

গ্রামীণ অগ্রগতিতে এনজিওগুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য হলেও অনেক সক্ষম তরুণ আজও উপযুক্ত সুযোগ থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে অকৃষি খাতে বিকল্প কাজের সুযোগ, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন ও গ্রামীণ পণ্যের বাজার তৈরি করা আবশ্যক। পাশাপাশি গ্রামীণ সমাজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাবকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগিয়ে সাধারণ ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার মান বাড়ানো এবং তা কর্মসংস্থানের সাথে যুক্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে কৃষক, মজুর ও যুবকদের মতামত প্রতিফলিত না হলে নীতিনির্ধারণের সঙ্গে বাস্তবতার তফাত থেকেই যায়।

ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় অবকাঠামো নির্মাণের ব্যয়ের পাশাপাশি কত মানুষের স্থায়ী আয় বাড়ল, তরুণদের কর্মসংস্থান কতটুকু হলো এবং সেবাকেন্দ্রে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কতখানি কমল—সেসব সূচক দিয়ে সাফল্য পরিমাপ করতে হবে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সেবার ফলাফল নিয়মিত প্রকাশ করা হলে জনমনে স্বচ্ছতা আসবে এবং অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে। শেষ পর্যন্ত গ্রামকে রূপান্তরের বাইরে রেখে জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতে পারে না; তাই গ্রামীণ জনগণকে করুণার পাত্র না ভেবে সমঅধিকারসম্পন্ন নাগরিক ও উন্নয়নের প্রকৃত অংশীদার হিসেবে মূলধারায় সম্পৃক্ত করাই বর্তমানের মূল দাবি।

শিরোনাম :
গাজীপুরে সুপ্রিম গার্মেন্টসে আগুন টাইফুন চাম্পির তাণ্ডবে বিধ্বস্ত তাইওয়ান, এবার চীনের পথে ঝড় গ্রামকে মূলধারায় যুক্ত না করলে উন্নয়ন টেকসই হবে না নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে লন্ডনে মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভের পরিকল্পনা মুন্সীগঞ্জে বাস দুর্ঘটনা: ঝরল ৩ প্রাণ, আহত অন্তত ১৬ ৪৫তম বিসিএস: প্রার্থীর বাদ পড়ার কারণ প্রকাশ ও সুরহার পশ্চিম তীরে নজিরবিহীন সামরিক অভিযানের ঘোষণা ইসরাইলের এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে ফর্টিসের ইতিহাস গড়া জয় কক্সবাজারে হোটেলে ফের আগুন মোদি সরকারের কড়া চ্যালেঞ্জার হয়ে উঠছেন নেহা বোরা গাজীপুরে সুপ্রিম গার্মেন্টসে আগুন টাইফুন চাম্পির তাণ্ডবে বিধ্বস্ত তাইওয়ান, এবার চীনের পথে ঝড় গ্রামকে মূলধারায় যুক্ত না করলে উন্নয়ন টেকসই হবে না নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে লন্ডনে মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভের পরিকল্পনা মুন্সীগঞ্জে বাস দুর্ঘটনা: ঝরল ৩ প্রাণ, আহত অন্তত ১৬ ৪৫তম বিসিএস: প্রার্থীর বাদ পড়ার কারণ প্রকাশ ও সুরহার পশ্চিম তীরে নজিরবিহীন সামরিক অভিযানের ঘোষণা ইসরাইলের এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে ফর্টিসের ইতিহাস গড়া জয় কক্সবাজারে হোটেলে ফের আগুন মোদি সরকারের কড়া চ্যালেঞ্জার হয়ে উঠছেন নেহা বোরা