এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের গ্রুপ পর্ব থেকে আগেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল ফর্টিস এফসির। প্রথম দুটি ম্যাচে পরাজয়ের পর শেষ লড়াইটি কেবলই আনুষ্ঠানিকতার সমীকরণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে সেই ম্যাচেই অবিস্মরণীয় এক জয় উপহার দিয়েছে বাংলাদেশের দলটি। পিছিয়ে পড়া সত্ত্বেও দুর্দান্তভাবে ম্যাচে ফিরে তাজিকিস্তানের এফসি রেগার-তাদাজকে ৩-১ গোলে পরাজিত করেছে তারা। এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বে বাংলাদেশের কোনো ক্লাবের ক্ষেত্রে এটিই প্রথম জয়। গোলটি যেন নতুন করে আত্মবিশ্বাস জোগায় বাংলাদেশের দলটিকে। তবু হতাশার সেই অভিযান শেষ হলো বড় এক প্রাপ্তিতে।
শুক্রবার কুয়েতের হাওয়ালি শহরের মোহামেদ আল হামাদ স্টেডিয়ামে ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচটির শুরুটা ফর্টিসের অনুকূলে ছিল না। ম্যাচের ১২ মিনিটে শেরজোদ মাখামাদিয়েভের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে এগিয়ে যায় রেগার-তাদাজ। তবে পাঁচ মিনিট বাদে তাজিক দলটি বড় ধাক্কা খায়। ফর্টিসের জাপানি মিডফিল্ডার নরিকি আকাদাকে মারাত্মক ফাউল করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন রেগার-তাদাজের ডিফেন্ডার তকাম সেভেরিন। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে এই সুবিধার কোনো ফসল তুলতে পারেনি ফর্টিস, ফলে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় তাদের। তবে পাঁচ মিনিট পরই ম্যাচের চিত্র বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত মেলে। একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ বাড়িয়ে তিন গোল আদায় করে নেয় ফর্টিস।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলি ফুটবলারদের নামিয়ে কৌশল পরিবর্তন করেন ফর্টিস কোচ। গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড পা ওমর বাবুর অনবদ্য নৈপুণ্যে ঘুরে দাঁড়ায় ক্লাবটি। ৬৭ মিনিটে ওমর বাবুর দেওয়া পাস থেকে রাফায়েল টুডু আকর্ষণীয় এক ব্যাকহিলে গোল করে ফর্টিসকে সমতায় ফেরান। এর চার মিনিট পর আবারও উদযাপনে মেতে ওঠে দলটি। একটি কর্নার থেকে নেপালি ডিফেন্ডার অনন্ত তামাংয়ের হেডের পর পাওয়া সুযোগে শক্তিশালী শটে বল জালে পাঠান শিয়ান কাওয়াসাকি। ৭১ মিনিটে ২-১ গোলে এগিয়ে গিয়ে ঐতিহাসিক জয়ের পথ সুগম করে ফর্টিস।
ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে জয় সুনিশ্চিত করে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা। ৮৮ মিনিটে পা ওমর বাবুর বানিয়ে দেওয়া বল ধরে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ৩-১ ব্যবধান গড়ে দেন বদলি হিসেবে মাঠে নামা জাপানি মিডফিল্ডার শুকি ইতোফুসা। প্রথম ম্যাচে কুয়েতের আল কাদসিয়ার কাছে ৩-০ এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের এফসি গোয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরে আসর থেকে ছিটকে গেলেও, ঐতিহাসিক এই জয়ে স্মরণীয় এক সাফল্য অর্জন করল ফর্টিস এফসি। শেষ দিকে ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখে দলটি।

