পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এসএমই খাতের দুই কোম্পানি—কৃষিবিদ সিড এবং ওয়েব কোটস নিয়ে তদন্তে নেমেছে। কোম্পানি দুটি কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফার বা কিউআইও’র মাধ্যমে যে ১৭ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল, সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে গত ২ নভেম্বর কমিশন আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। উত্তোলিত অর্থের সঠিক প্রয়োগ হয়েছে কি না, তা যাচাই করাই এই তদন্তের মূল লক্ষ্য।
কৃষিবিদ সিডের কার্যক্রম তদন্তের জন্য বিএসইসি উপপরিচালক মওদুদ মোমেন ও সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রুমান হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ওয়েব কোটসের আর্থিক হিসাব ও কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য যুগ্ম পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম এবং সহকারী পরিচালক ফারহানা ওয়ালেজাকে নিয়ে গঠিত হয়েছে অন্য একটি তদন্ত দল। উভয় দলকে কোম্পানি দুটির কিউআইও তহবিলের প্রতিটি খাতের ব্যয় বিশ্লেষণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটিকে কোম্পানিগুলোর দাখিল করা আর্থিক বিবরণী সতর্কতার সাথে পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে, অর্থ ব্যয়ের বিপরীতে যেসকল সম্পদ বা প্রকল্প দেখানো হয়েছে, সেগুলোর বাস্তব অবস্থা সরেজমিনে যাচাই করবে কমিশন। এছাড়া কিউআইও’র অর্থ স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা, ব্যাংক হিসাবের লেনদেনের বিস্তারিত ইতিহাস এবং অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম ঘটেছে কি না, তা-ও নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হবে।
তদন্ত প্রক্রিয়ার আওতা বাড়াতে বিএসইসি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে যে, যদি কোনো ধরনের আর্থিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে, তবে তার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে হবে। অনিয়মের সঙ্গে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা, কোম্পানি সচিব, নিরীক্ষক বা অন্য কোনো পক্ষ জড়িত থাকলে তাদের ভূমিকা এবং আইনত কোন কোন নির্দেশনার ব্যত্যয় হয়েছে, তা তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

