সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের এবারের আসরে বাংলাদেশকেই সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে দেখছেন ভারত জাতীয় ফুটবল দলের কোচ নওশাদ মুসা। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকায় পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্বাগতিক দলের শক্তির প্রশংসা করেন। নওশাদ মুসা স্পষ্টতই আশাবাদী, ফাইনালে বাংলাদেশ ও ভারতের মুখোমুখি লড়াই দেখা যেতে পারে। ভারতীয় কোচ বলেন, ‘আমার বিবেচনায় এই মুহূর্তে বাংলাদেশই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দল।
ভারতীয় দলের মূল কোচ খালিদ জামিলের পরিবর্তে এবারের দায়িত্ব পেয়েছেন অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কোচ নওশাদ মুসা। সেবারও অনূর্ধ্ব-২৩ দল নিয়ে এসেছিল ভারত।
দলের ২৮ সদস্যের বেশিরভাগই অনূর্ধ্ব-২৩ পর্যায়ের তরুণ খেলোয়াড়। এর অন্যতম কারণ, একই সময়ে ভারতের মূল জাতীয় দল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে। এছাড়া ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) চলায় ক্লাবগুলো থেকে সব খেলোয়াড়কে শুরু থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিলেও নওশাদ আত্মবিশ্বাসী, ‘৫ তারিখের পর থেকে লিগে ১০টি দল খেলবে। কয়েকজন খেলোয়াড়কে প্রথম ম্যাচের আগে পাওয়া যাচ্ছে না, যা একটি চ্যালেঞ্জ। তবে আমাদের হাতে থাকা দলটি মোটেও দুর্বল নয়, বরং বেশ শক্তিশালী।’ ২৮ সদস্যের দলে অনূর্ধ্ব-২৩ পর্যায়ের খেলোয়াড়ের সংখ্যাই বেশি। তবে যে দলটি পেয়েছি, সেটিও খারাপ নয়। সত্যি বলতে, আমাদের দলটাও শক্তিশালী।’।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের সাফল্যের ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ১৯৯৩ সালে প্রথম শিরোপা জয়ের পর ১৯৯৭, ১৯৯৯, ২০০৫, ২০০৯, ২০১১, ২০১৫, ২০২১ ও ২০২৩ সালে তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সব মিলিয়ে নয়বারের এই চ্যাম্পিয়নরা এবারও শিরোপা ধরে রাখতে মুখিয়ে আছে। ২০০৯ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফেও ভারত তরুণ দল নিয়ে এসে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। সেবার সেমিফাইনালে তারা স্বাগতিক বাংলাদেশকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল এবং ফাইনালে মালদ্বীপকে টাইব্রেকারে ৩-১ ব্যবধানে পরাজিত করে শিরোপা জিতেছিল। সর্বশেষ ২০২৩ সালে ফাইনালে হারিয়েছে অতিথি দল কুয়েতকে। তারকাদের ছাড়াও সাফ জেতার অভিজ্ঞতা তাই তাদের আছে।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের লড়াই বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হয়েছে। গত বছরের ১৮ নভেম্বর এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে বাংলাদেশকে ১-০ গোলে হারানোর স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ। এছাড়া ২০২৫ সালের মার্চে ভারতের মাঠে দুই দলের একটি ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। সব মিলিয়ে স্বাগতিক বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই সফরকারীদের। স্বাগতিকদের নিয়ে তাঁর কোনো সংশয় নেই। তবে প্রতিপক্ষের প্রশংসা করলেও নিজের দলের লক্ষ্য নিয়ে কোনো দ্বিধা নেই ভারতীয় কোচের। নওশাদ বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখলেও শিরোপার লড়াইয়ে ভারতকে পিছিয়ে রাখার সুযোগ নেই।
আগামী ৫ নভেম্বর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। উদ্বোধনী দিনেই মাঠে নামবে দুই দেশ। বিকেল সাড়ে তিনটায় ভারত খেলবে পাকিস্তানের বিপক্ষে। একই দিনে রাত আটটায় ভুটানের বিপক্ষে মাঠে নামবে স্বাগতিক বাংলাদেশ। যদিও টুর্নামেন্ট শুরুর দুদিন বাকি থাকলেও উদ্বোধনী দিনের প্রায় ৭৫ শতাংশ টিকিট এখনও অবিক্রীত রয়ে গেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। যদিও সেই অভিযানে এবার তাদের ভরসা মূলত তরুণদের ওপর।

