চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা কেড়ে নিল আট বছর বয়সী শিশু ঐশী দাসের প্রাণ। উত্তর কাট্টলী এলাকার বাসিন্দা এই শিশুটি তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরীর বায়েজিদ এলাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার সকালে সনদ দত্ত মহাশ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। কুয়েতপ্রবাসী বাবা লিটন দাস মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে দ্রুত দেশে ফিরেছেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, গত কয়েক মাসে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেড়েছে। কোনোভাবেই মেয়েটাকে বাঁচাতে পারলাম না।’। আজ শুক্রবার সকালে নগরের উত্তর কাট্টলী বাংলাবাজার এলাকায় বাড়িতে কথা হয় তাঁর সঙ্গে।
ঐশীর পরিবার জানায়, গত সোমবার তার জ্বর আসে এবং তাপমাত্রা ১০৩ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠেছিল। মা ও চাচার সহায়তায় তাকে চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। চিকিৎসকরা শুরুতে বাসায় থেকে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে বাসায় ফেরার পর তার বমি শুরু হয় এবং শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। জ্বরের মাত্রা ছিল ১০৩ ডিগ্রি।
প্রথমে তাকে জিইসি মোড়ের রয়েল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় আইসিইউ শয্যার প্রয়োজন পড়ে। ঐশীর চাচা মিটন দাস জানান, হাসপাতালটিতে আইসিইউ খালি না থাকায় বাধ্য হয়ে তাকে বায়েজিদের সাজিনাস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঐশীকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। ‘অনেক প্রার্থনা করেছি, মেয়েটা যেন সুস্থ হয়ে যায়। কিন্তু পুতুলের মতো মেয়েটা আমাদের ছেড়ে চলে গেল।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, ঐশী সবার প্রিয় ছিল। তার এমন অকাল প্রস্থান মেনে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবারের সবাই এখন শোকে স্তব্ধ। তার মা লিপি দাস ও বোন রুহি দাস বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। ঐশী ও সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া আরেক মেয়ে রুহি দাসকে নিয়ে কাট্টলীর বাড়িটিতে থাকেন মা লিপি দাস।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য বলছে, জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ৯২৪ জন। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসেই আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৩৬৬ জন। ২০২৩ সালে জেলায় সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৮৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫ জনে। এর মধ্যে শুধু অক্টোবর মাসেই মারা গেছেন ১৪ জন। ঐশী দাসের মৃত্যুর পর এই সংখ্যা ১৫-তে পৌঁছাল। নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তরফ থেকে নানা সতর্কতা থাকলেও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।

