সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ১০ জন গুণী ব্যক্তি এবং পাঁচ সাংবাদিককে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। ‘গুণীজনের আলোয় আলোকিত হোক সমাজ’ এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে গত শনিবার বিকেলে উপজেলা অডিটোরিয়াম হলে ‘নক্ষত্রের অভিবাদন’ শীর্ষক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাব। সমাজের নানা স্তরের কীর্তিমান মানুষদের সম্মান জানাতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে মেধা ও মননের স্বাক্ষর রাখা কয়েকজন ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীকেও বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সাহিত্য, শিক্ষা, সাংবাদিকতা, মুক্তিযুদ্ধ, জনসেবা, কৃষি, ক্রীড়া ও সংগীতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য গুণীজনদের সম্মাননা জানানো হয়। এর মধ্যে সাংবাদিকতায় আনোয়ার হোসেন মল্লিক, জনসেবায় বাবু বিশ্বনাথ দাস এবং সংগীতে অনিমেষ ব্যানার্জিকে মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন বিভাগে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কেরামত উল্লাহ ও স্বপন কুমার মুখার্জি, বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম মিজানুর রহমান, কৃষি উদ্যোক্তা মনোতোষ মণ্ডল, আলহাজ আরশাদ আলী মোড়ল, আবুল কালাম বাবলা এবং এস এম ফিরোজ হোসেনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় সেবাদানের স্বীকৃতিস্বরূপ হাফেজ আব্দুল আলীকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়, সেই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ ও চিকিৎসক জিহাদ আলীকেও সম্মাননা প্রদান করা হয়। ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ আশরাফিয়া দাওরা হাদিস মাদ্রাসায় অর্ধশতাব্দী ধরে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ সংবর্ধনা পান হাফেজ আব্দুল আলী।
সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে সংবর্ধিত পাঁচ জনের মধ্যে শ্যামনগর প্রতিনিধি জি এম মনিরুজ্জামান (মিশুক) সেরা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য বিশেষ স্বীকৃতি লাভ করেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল আযম মনির এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান লিটন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর থানার ওসি সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সোলায়মান কবীর, জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক ফজলুল হক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি এবং সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ লিয়াকত আলী বাবু।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বিভিন্ন প্রতিকূলতা জয় করে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়া ব্যক্তিদের জীবনগাঁথা তুলে ধরেন। ১৯৫৫ সাল থেকে শিক্ষকতা ও এলাকার ইতিহাস রচনায় নিয়োজিত শিক্ষক, সম্মুখ সমরে গুলিবিদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা এবং উচ্চশিক্ষা শেষে শাঁখা বিক্রি থেকে শুরু করে কৃষিতে সাফল্য পাওয়া উদ্যোক্তাদের সংগ্রামের গল্প বিশেষভাবে উপস্থাপিত হয়। সমাজ পরিবর্তনে এমন ব্যক্তিদের অবদান নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে অনুষ্ঠানে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। একজন মুক্তিযোদ্ধা সম্মুখযুদ্ধে পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আবার উচ্চশিক্ষা শেষ করেও চাকরি না পেয়ে গ্রামে গ্রামে শাঁখা বিক্রি করা এক ব্যক্তি পরবর্তী সময়ে সবজি চাষে সাফল্য এনে অন্য কৃষকদের পথ দেখিয়েছেন।

