ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক সংঘাত আরও ব্যাপক করার বিষয়ে শীঘ্রই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, প্রয়োজনে ইরানের বাকি অংশও পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হতে পারে। গত ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই মন্তব্য করেন। অ্যাক্সিওস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর ইরান ইস্যুতে নতুন করে রাজনৈতিক চাপ ও জটিলতা তৈরি হয়েছে। নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরুর আগে ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণে কতটা স্বাধীনতা পাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় যুদ্ধ পরিচালনায় ট্রাম্পের ওপর কংগ্রেসের নজরদারি বাড়াতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশ সতর্ক করেছেন যে, নতুন কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার আগেই সামরিক অভিযান জোরদার করার ঝুঁকি রয়েছে। এমনকি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, আগামী জানুয়ারির আগে ট্রাম্প ইরানে বড় ধরনের হামলা চালাতে পারেন।
যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে এক ধরনের অসংলগ্নতা দেখা যাচ্ছে। একদিকে সামরিক অভিযানের বিস্তৃতির কথা বললেও, অন্যদিকে বড় ধরনের নতুন কোনো হামলার তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা নেই বলেও তিনি জানিয়েছেন। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, আপাতত বড় কোনো হামলার পরিকল্পনা না থাকলেও প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। এর আগে পলিটিকোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে দাবি করেছিলেন।
তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধের ভূমিকা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন ট্রাম্প। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে তিনি জানান, যুদ্ধের প্রভাব নির্বাচনে ছিল। কিন্তু ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি যুদ্ধের চেয়ে জ্বালানি তেলের উচ্চ মূল্যকেই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, তার মনে হয় এর পেছনে পেট্রলের দামের বড় ভূমিকা ছিল। অন্য বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন এলেও যুদ্ধের অবসান যে দ্রুত হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

