সিলেট টেস্টের প্রথম দিনে বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন তাসকিন আহমেদ। দিনের শুরুতে পিচের আর্দ্রতা কাজে লাগিয়ে নিজের প্রথম পাঁচ ওভারেই তুলে নেন দুটি উইকেট। তবে পুরো দিন প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ফিল্ডিং ও বোলিংয়ের ধকল সামলেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ক্লান্ত শরীর নিয়েও সারাদিনে মোট ১৪ ওভার বল করেছেন এই পেসার। তবু হাল ছাড়েননি, সারা দিনে ১৪ ওভার বোলিং করেছেন। নিজের প্রথম ৫ ওভারেই এনে দেন ২ উইকেট। ২ উইকেট নিয়ে ৭ ওভারের প্রথম স্পেলটা তাসকিন যখন শেষ করেন, উইকেটে তখনো পেসারদের বল মুভ করছে। ‘কী পরিমাণ যে ঘামাচ্ছিল ভাই…’ সংবাদ সম্মেলন ছেড়ে যেতে যেতে কথাটা বলছিলেন তাসকিন আহমেদ। কিন্তু প্রতি ওভারেই ঘামানো শরীর নিয়ে বাউন্ডারি লাইনের কাছে ফিল্ডিং করতে দেখা যায় তাঁকে, সেখানেই ঘাম মুছে তাসকিন তৈরি হয়েছেন পরের ওভারের জন্য।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তাসকিন অকপটে জানান, উইকেটের যে অবস্থা ছিল, তাতে দলের কম্বিনেশনে একজন বাড়তি পেসার রাখা বেশি যুক্তিযুক্ত ছিল। তিনি বলেন, সকালের এক ঘণ্টার ময়েশ্চার বা আর্দ্রতা কাজে লাগিয়ে পেসাররা দারুণ সাফল্য পাচ্ছিলেন। যদি দলে আরেকজন ফাস্ট বোলার থাকত, তবে বোলিং ইউনিট আরও লম্বা সময় চাপ সৃষ্টি করে রাখতে পারত এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ে আরও কয়েকবার আঘাত করা সম্ভব হতো।
প্রথম দিনে বাংলাদেশের নেওয়া চারটি উইকেটের সবগুলোই এসেছে হাসান মাহমুদ ও তাসকিনের হাত ধরে। বিপরীতে তিন স্পিনার মিলে ৪২ ওভার বোলিং করেও কোনো উইকেট শিকার করতে পারেননি, এমনকি খুব একটা সুযোগও তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে বাড়তি পেসারের অভাব বেশ প্রকট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন তাসকিন। সিলেট টেস্টে তাঁর হাত ধরে বাংলাদেশ দুর্দান্ত শুরুও পেয়েছিল। প্রথম দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৪ উইকেটের সবগুলোই পেয়েছেন হাসান মাহমুদ ও তাসকিন।
দল নির্বাচন নিয়ে তাসকিন বলেন, মিরপুর টেস্টের মতোই শেষ মুহূর্তে একাদশ চূড়ান্ত করা হয়েছিল। ম্যাচের আগের দিন পর্যন্ত উইকেটে ঘাস থাকায় তিনজন ফাস্ট বোলারকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত উইকেট শুকনো মনে হওয়ায় টিম ম্যানেজমেন্ট দুই পেসারের কৌশল বেছে নেয়। তাসকিন এই সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা জানিয়েই বলেন, সকালের পরিস্থিতি ও খেলার মোড় বিবেচনায় ব্যক্তিগতভাবে তাঁর মনে হয় অতিরিক্ত একজন পেসার দলের জন্য ভালো হতো। তবে বর্তমান দল নিয়েই এখন লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। কিন্তু দুই পেসারের একাদশ সাজানো বাংলাদেশকে তখন বোলিংয়ে নিয়ে আসতে হয় স্পিনারদের।
আগামী চার দিনে ম্যাচের ফল নির্ধারণে স্পিনাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে বিশ্বাস তাসকিনের। তবুও দলের বোলিং পরিকল্পনায় বাড়তি একজন পেসার থাকলে তা যে দলের জন্য বাড়তি সুবিধা আনত, সেই আক্ষেপটাই দিন শেষে স্পষ্ট হয়ে উঠল তাঁর কথায়।

