প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া জোটের প্রস্তাবিত ‘গণ-ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচি এক দিন পিছিয়ে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার দিল্লিতে ভারী বৃষ্টির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের দিল্লির বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রাহুল জানান, জ্যেষ্ঠ নেতাদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে শুক্রবার বিকাল ৪টার পরিবর্তে শনিবার একই সময়ে কর্মসূচিটি পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিরোধী নেতাদের পাশে বসে সাংবাদিকদের সামনে রাহুল গান্ধী বলেন, জ্যেষ্ঠ নেতাদের কথা মাথায় রেখে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে। এখন শনিবার একই সময়ে তা অনুষ্ঠিত হবে।
কংগ্রেসের এই নেতা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করার কঠোর অভিযোগ তোলেন। তার মতে, এই প্রতিবাদী কর্মসূচিগুলো মূলত নির্বাচন কমিশন ও বর্তমান সরকারের দ্বারা ভারতীয় গণতন্ত্র ধ্বংসের চেষ্টার বিরুদ্ধে একটি সম্মিলিত প্রতিরোধ।
আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দান অভিমুখে আয়োজিত পদযাত্রায় সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন রাহুল গান্ধী। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং তেলেঙ্গানা থেকে সাধারণ মানুষকে দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া থেকে বিরত রাখতে সব ধরনের সরকারি বিধিনিষেধ ও বাধা দেওয়া হচ্ছে। ১ নভেম্বর ইন্ডিয়া জোটের প্রস্তাবিত রামলীলা ময়দান অভিমুখী পদযাত্রায় সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান এই কংগ্রেস নেতা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মানুষের চলাচলে বাধা দেওয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে রাহুল গান্ধী দাবি করেন। তবে এসব বাধার মুখে কত মানুষ শেষ পর্যন্ত রামলীলা ময়দানে জড়ো হতে পারেন, তা-ই বর্তমান পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, এসব বিধিনিষেধ পেরিয়ে কতজন মানুষ আসতে পারলেন, রামলীলা ময়দানের উপস্থিতিই তা দেখিয়ে দেবে।

