সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে ধারণ করা ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবির অভিযোগে সাতক্ষীরায় আবদুল্লাহ আল মামুন নামের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাতে দেবহাটা উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, এই ঘটনায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার প্রধান আসামি হিসেবে উপজেলা সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জিসান বাবুলকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া গ্রেপ্তার আবদুল্লাহ আল মামুন ও মামলার বাদীর সাবেক স্ত্রীসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজন এই মামলার আসামি। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ছয়-সাত মাস আগে পারিবারিক মতপার্থক্যের জেরে বাদী তাঁর স্ত্রীকে তালাক দেন। এর পরবর্তী সময়ে বাদীর সাবেক স্ত্রীর সাথে মামলার অন্য আসামিদের যোগাযোগ স্থাপিত হয় এবং তাঁদের দাম্পত্য জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও কৌশলে সংগ্রহ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সংগৃহীত এসব ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বাদীর কাছে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করেন আসামিরা। টাকা না দিলে ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ অক্টোবর ‘সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল’ নামের ফেসবুক আইডি এবং ১ নভেম্বর আবদুল্লাহ আল মামুনের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে বাদীর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বাদী জানান, আসামিরা প্রথমে তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। পরে তা কমিয়ে তিন লাখ এবং সর্বশেষ এক লাখ টাকা চাওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, টাকা না দেওয়ায় তাঁরা ভিডিওগুলো ছড়িয়ে দিতে থাকেন, যার ফলে শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে আইনের আশ্রয় নিতে হয়। সাতক্ষীরা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামিল কবির নিশ্চিত করেছেন যে, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় অভিযুক্ত আবদুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

